Banglar Yuva Sathi Scheme 2026: বিগ ব্রেকিং! এপ্রিলেই যুবসাথীর টাকা! কিন্তু কারা পাবেন না এই সুবিধা? কারা, কোথায় আবেদন করবেন, কী যোগ্যতা-- সব তথ্য এখানেই...
ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে যে চমক দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা বলাই বাহুল্য। বাজেটে একাধিক নতুন ঘোষণা করা হলেও সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে সামনে এসেছে নতুন প্রকল্প- ‘বাংলার যুব সাথী’ (Banglar Yuba Sathi Scheme)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের যুবসমাজকে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামনে বিধানসভা ভোটের আবহে এই ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে আগে জেনে নেওয়া যাক, প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবেন এবং কী ভাবে।
কী এই ‘বাংলার যুব-সাথী’?
রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। উদ্দেশ্য—চাকরির প্রস্তুতির সময়ে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। মাসে ১,৫০০ টাকা, অর্থাৎ বছরে ১৮,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা মিলতে পারে।
প্রাথমিক ঘোষণা অনুযায়ী সম্ভাব্য যোগ্যতার মানদণ্ড—
১. বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে
২. ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ
৩. বর্তমানে বেকার
৪. পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা
৫. চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে শর্তাবলি আরও স্পষ্ট হবে।
কতদিন মিলবে ভাতা?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
কবে থেকে চালু?
সরকারি জানিয়েছে আগামী এপ্রিল মাস থেকেই প্রকল্পটি চালু হতে পারে। অর্থাত্ ১লা এপ্রিল থেকেই বেকার যুবকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে যুবসাথীর ১৫০০ টাকা।
কী ভাবে আবেদন করবেন?
আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে হওয়ার সম্ভাবনা। সম্ভাব্য ধাপগুলি—
১. নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন
২. ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ
৩. প্রয়োজনীয় নথি আপলোড
৪. যাচাই শেষে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার)
কী কী নথি লাগতে পারে?
চূড়ান্ত তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে সম্ভাব্য নথির মধ্যে থাকতে পারে—
১.মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেট বা মার্কশিট
২. বয়সের প্রমাণপত্র
৩. আধার বা ভোটার কার্ড
৪. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ
৫. মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি
বাজেট ও ভোটের প্রেক্ষাপট
এই ঘোষণা করেছে রাজ্য বাজেটে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— এটি কি শুধুই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, না কি ভোটের আগে যুব সমাজকে বার্তা? নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক ও আদালতের মামলার আবহে বেকারত্ব ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। সেই পরিস্থিতিতে ‘বাংলার যুব-সাথী’কে অনেকেই দেখছেন মমতা সরকারের বড় সামাজিক পদক্ষেপ হিসেবে।
সরকারের দাবি, কর্মসংস্থানের চেষ্টা চলবে নিজের গতিতে, আর তার সঙ্গে সমান্তরালভাবে বেকার যুবকদের হাতে সাময়িক আর্থিক সহায়তা তুলে দিতেই এই উদ্যোগ।
তবে যারা ইতোমধ্যে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা যেমন, যুবশ্রী প্রকল্প, লক্ষ্মীর ভান্ডার, কৃষক বন্ধু ইত্যাদির টাকা পেয়েছেন, তারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না। সংবাদ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে এই প্রকল্পের আবেদন পত্র জমা নেওয়া হবে। এবং যুব সাথী প্রকল্পের জন্য অনলাইন পোর্টালও খোলা হবে।
সব মিলিয়ে, ‘বাংলার যুব-সাথী’ এখন ঘোষণার পর্যায়ে। চূড়ান্ত নিয়মাবলি প্রকাশিত হলে আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে। তবে বাজেটের মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে .
0 মন্তব্যসমূহ